Tuesday, 29 December 2015

মজুরি-শ্রম ও পুঁজি - কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস

"মজুর তার শ্রমশক্তির বিনিময়ে জীবনধারণের উপকরণ পায়, আর পুঁজিপতি তার দেওয়া জীবনধারণের উপকরণের বিনিময়ে পায় শ্রম, মজুরের উৎপাদনী ক্রিয়া, সৃজন শক্তি, যা দিয়ে মজুর যেটুকু ভোগ করে শুধু তাই সে শোধ দেয় না, সঞ্চিত শ্রমের যে মূল্য ছিল তা আরো বাড়িয়ে দেয় ।"

"মজুরির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ধরে নেয়, উৎপাদনশীল পুঁজির একটা দ্রুত বৃদ্ধি । উৎপাদনশীল পুঁজির দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধনদৌলত, বিলাসব্যসন, সামাজিক চাহিদা ও সামাজিক উপভোগও সমান দ্রুতগতিতেই বেড়ে যায় । কাজেই মজুরের উপভোগ কিছুটা বাড়লেও তার থেকে সামাজিক পরিতৃপ্তি যে পরিমাণ পাওয়া যায় তা মজুরের কাছে যা দুর্লভ পুঁজিপতিদের সেই বর্ধিত উপভোগের তুলনায় আর সাধারণত গোটা সমাজের বিকাশের তুলনায় পিছিয়েই যায় । সমাজ থেকেই জাগে আমাদের চাহিদা ও উপভোগ; তাই সমাজের মাপকাঠিতেই আমরা তাদের বিচার করি, চরিতার্থতার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মাপকাঠিতে নয় । আমাদের চাহিদা ও উপভোগের চরিত্র সামাজিক তাই তারা আপেক্ষিক ।"

"মজুরের বৈষয়িক জীবনের উন্নতি হয়েছে বটে, কিন্তু তার সামাজিক অবস্থানের বিনিময়ে । পুঁজিপতির সঙ্গে তার যে সামাজিক ব্যবধান সেটার পরিসর আরো বেড়ে গেছে ।"

শ্রম-বিভাগ : "কাজ বেশি করে - তা অধিক সময় কাজ করেই হোক  বা এক ঘন্টায় বেশি পরিমাণ জিনিস উৎপন্ন করে হোক - মজুর তার মজুরির মোট পরিমাণটি বজায় রাখতে চেষ্টা করে । অভাবের তাড়নায় শ্রম-বিভাগের কুফল সে এইভাবে আরো বাড়িয়ে তোলে । ফলে, যত বেশি সে খাটে, ততই কম মজুরি সে পায়; তার সহজ কারণ এই যে, মজুর যত বেশি কাজ করে তত বেশি পরিমাণেই সে সহ-শ্রমিকদের সঙ্গে তার প্রতিযোগিতা বাড়ায়, ফলে সকলকেই তার প্রতিযোগী করে তোলে, তারাও তারই মতো সমান প্রতিকূল শর্তে নিজেদের বিকিয়ে দেয়; তাই শেষ পর্যন্ত সে নিজেরই সঙ্গে, শ্রমিক শ্রেণীর একজন সভ্য হিসাবে তার নিজের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা চালায় ।"

"এই যুদ্ধের বৈশিষ্ট্য এই যে, মজুর-বাহিনীকে দলভুক্ত না করে বরখাস্ত করলেই বরং যুদ্ধ জয় হয় বেশি । শিল্পের সেনাদের কে কত বেশি সংখ্যক বরখাস্ত করতে পারে এই নিয়ে সেনাপতিরা অর্থাৎ পুঁজিপতিরা পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে ।"

"উৎপাদনশীল পুঁজি যতই বেড়ে যায়, শ্রম-বিভাগ এবং যন্ত্রপাতির প্রচলনও তত প্রসার পায় । আবার শ্রম-বিভাগ এবং যন্ত্রপাতির প্রচলন যতই বেড়ে চলে মজুরদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও ততই বাড়ে, মজুরিও তত কমে যায় ।"

"পুঁজি দ্রুত বেড়ে চললে মজুরদের প্রতিযোগিতা বেড়ে যায় আরো অতুলনীয় দ্রুতগতিতে, অর্থাৎ পুঁজি যত দ্রুত বেড়ে যায় শ্রমিক শ্রেণীর উপার্জনের উৎস, জীবনধারণের উপকরণও তত বেশি কমে যেতে থাকে; তবুও মজুরি-শ্রমের পক্ষে সব চাইতে অনুকূল অবস্থা হল পুঁজির দ্রুত বৃদ্ধি ।"

Tuesday, 22 December 2015

কমিউনিস্ট লীগের কাছে কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি - কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস

"বিপ্লবী প্রলেতারিয়েতের জন্য সমগ্র সমাজকে আমূল পরিবর্তনের বাসনা দূরের কথা, গণতন্ত্রী পেটি বুর্জোয়ারা সমাজ পরিস্থিতিতে সেইটুকু পরিবর্তনের জন্যই সচেষ্ট যাতে বর্তমান সমাজব্যবস্থাই তাদের পক্ষে যথাসম্ভব সহনীয় ও আরামপ্রদ হতে পারে । তাই তারা সর্বোপরি দাবি করে আমলাতন্ত্রের ছাঁটাই করে এবং বৃহৎ ভূস্বামী ও বুর্জোয়াদের উপর প্রধান প্রধান করগুলির ভার চাপিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের সঙ্কোচসাধন । এছাড়াপ তারা দাবি করে সরকারী ঋণদান-সংস্থার মাধ্যমে এবং সুদখোরীর বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের দ্বারা স্বল্প পুঁজির উপর বৃহৎ পুঁজির চাপের বিলোপ; এর ফলে পুঁজিপতিদের পরিবর্তে স্বয়ং রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধাজনক শর্তে নিজেদের এবং কৃষকদের জন্য দাদন পাওয়া সম্ভব হবে ...

... গণতন্ত্রী পেটি বুর্জোয়ারা শ্রমিকদের জন্য কেবল চায় বেশি মজুরি ও আরো নিরাপদ জীবন; অংশত রাষ্ট্রের অধীনে কাজের ব্যবস্থা দিয়ে ও দাতব্য ব্যবস্থার মাধ্যমে তা অর্জন করার আশা পোষণ করে তারা । সংক্ষেপে, এরা কমবেশি গোপন ভিক্ষা দিয়ে শ্রমিকদের বশীভূত করার এবং সাময়িকভাবে তাদের অবস্থা সহনীয় করে তুলে তাদের বৈপ্লবিক শক্তিকে ভেঙে দেবার আশা করে ।"

"সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ঐক্য মিলন প্রয়োজন হয় না । তেমন কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে যখনই প্রত্যক্ষভাবে লড়াই করতে হয় তখন দুই পার্টির স্বার্থ সেই সময়টুকুর জন্য মিলে যায় । ... সংঘর্ষের সময় এবং সংগ্রামের অব্যবহিত পরে, আদৌ যতটা সম্ভব, ঝড় শান্ত করার বুর্জোয়া প্রচেষ্টাকে শ্রমিকদের প্রতিহত করতে হবে এবং গণতন্ত্রীদের বাধ্য করতে হবে বর্তমান সন্ত্রাসবাদী বচনগুলিকে কার্যকরী করে তুলতে । ... এক কথায়, বিজয়লাভের প্রথম মুহূর্তটি থেকে, পরাজিত প্রতিক্রিয়া-পার্টির বিরুদ্ধে আর নয়, শ্রমিক শ্রেণীর পূর্বতন সহযোগীদের বিরুদ্ধে, যে পার্টিটি সাধারণ জয়লাভের ফল একাই আত্মসাৎ করতে চায় তার বিরুদ্ধেই অবিশ্বাস চালিত করা প্রয়োজন ।"

"এমন কি যেখানে নির্বাচিত হওয়ার মতো কোনো সম্ভাবনাই নেই সেখানেও নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য, নিজেদের শক্তির পরিমাপ করার জন্য, এবং জনসাধারণের কাছে নিজেদের বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গি ও পার্টির বক্তব্য উপস্থাপিত করার জন্য শ্রমিকদের নিজস্ব প্রার্থী দাঁড় করাতে হবে । এ কাজের ফলে গণতন্ত্রী দলে বিভেদ আসবে এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের জয়লাভের সুযোগ হবে - গণতন্ত্রীদের এই ধরনের যুক্তির দ্বারা শ্রমিকরা যেন এ বিষয়ে কিছুতেই নিজেদের পথভ্রষ্ট হতে না দেয় ।"

Wednesday, 16 December 2015

শিল্পায়নে গুরুত্ব - যত দূর মনে পড়ে - জ্যোতি বসু

১৯৯৪ সাল

ভূমি সংস্কারের ফলে কৃষির সাফল্যের উপর দাঁড়িয়ে শিল্পায়নকে বামফ্রন্ট সরকার প্রথম থেকেই গুরুত্ব দিয়ে এসেছে কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাড়তি উদ্যোগ উদ্যম প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল জন্য রাজ্য সরকারের বাণিজ্য এবং শিল্প দপ্তরকে শক্তিশালী করা হয় পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগমের কাজকর্মকেও চাঙ্গা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি আমাদের পার্টির বিশিষ্ট সাংসদ সোমনাথ চ্যাটার্জিকে শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় ...

...সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের রূপরেখা সংক্রান্ত একটি নীতি-বিবৃতি আমি বিধানসভায় পেশ করেছিলাম

একটা কথা স্পষ্ট করেই মনে রাখার দরকার যে, এটিকে 'নীতি-বিবৃতি' হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে একথা বলার কারণ হচ্ছে বড় মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কখনো একাই স্বাধীন স্বয়ংসম্পূর্ণ নীতি ঘোষণা করতে পারে না সংবিধান অনুযায়ী এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের আওতার মধ্যে তাই কোন প্রেক্ষাপটে এই দলিলটি আমরা পেশ করেছিলাম, তা এর গোড়াতেই বলে দেওয়া আছে ...

...আমি লক্ষ করেছি, বামফ্রন্ট-বিরোধী মহল থেকে আমাদের বিরুদ্ধে প্রধানত দুটি বিষয় তোলা হয়েছে এক : নির্বাচন বৈতরণী পার হওয়ার জন্য বামফ্রন্ট শিল্পায়নের হওয়া তুলেছে এক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা নেই দুই : বামফ্রন্ট যখন কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন আর্তিক নীতি শিল্পনীতির বিরোধিতা করছে, তখন কার্যত সেই নীতিই বামফ্রন্ট সরকার কার্যকর করছে পশ্চিমবঙ্গে তখন, এমনকি প্রধানমন্ত্রী রাও তাঁর অর্থমন্ত্রী দেশে-বিদেশে এসব কথা বলেছেন বামফ্রন্ট বিরোধী সংবাদপত্র মহল এখনো বলে চলেছে

বলা বাহুল্য, এসব দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য যাঁরা করছেন তাঁরা একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এটা করেছেন একথা সকলেরই জানা, কেন্দ্রে কংগ্রেস থাকা কালে ধারাবাহিক সীমাহীন বঞ্চনার ফলেই পশ্চিমবঙ্গ পূর্ব ভারত বড় মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে গত তিনদশক উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি এর জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতিকে বাধা দেবার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরী করেছিল এর ফলে রাজ্যের বিপুল ক্ষতি হয়েছে আমি আগেও বহুবার বলেছি, এখনো বলেছি যে প্রধানত চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অবরোধ সৃষ্টি করেছিল :

মাসুল সমীকরণ নীতি
শিল্প-অনুমোদন প্রথা
কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ এবং বরাত সংক্রান্ত নানা নির্দেশ
আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলির বিরূপ আচরণ

... ভৌগোলিক প্রাকৃতিক কারণে পশ্চিমবঙ্গের এই সুবিধাজনক অবস্থান জবরদস্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল লৌহ ইস্পাতশিল্পের ক্ষেত্রে এই নীতি ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৯২ সালের ১৫ জানুয়ারী পর্যন্ত কার্যকর ছিল সারা দেশে সুষম শিল্পবিকাশের দোহাই  গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ক্ষেত্রে এই নীতি চালু করা হয়েছিল ...  সংসদে বাইরে  গণ-আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় সরকার বি ডি পান্ডের নেতৃত্বে একটু কমিটি গঠন করে এই নীতিটি পর্যালোচনা করার সুপারিশ করার জন্য পান্ডে কমিটি পর্যায়ক্রমে এই আইন প্রত্যাহার করার সুপারিশ করে ১৯৮২ সালে তারপরও কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘ দশ বছর এটা চালু রাখে ১৯৯২ সালের ১৬ জানুয়ারী থেকে এটা আংশিক প্রত্যাহৃত হয় এরই সঙ্গে লৌহ ইস্পাতের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার এমন কতগুলি সিদ্ধান্ত গঘোষণা করে, যাতে পশ্চিমবঙ্গ আপেক্ষিক-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়

মাসুল সমীকরণ নীতি প্রত্যাহার করার পর দেখা যায়, পরবর্তী ৪৪ মাসে ১০০ টিরও বেশি লৌহ এবং ইস্পাত-ভিত্তিক শিল্প স্থাপনের প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছিল মাসুল সমীকরণ নীতি ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক অবরোধের প্রথম স্তম্ভ

কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক অবরোধের দ্বিতীয় স্তম্ভ ছিল শিল্প অনুমোদন প্রথা ১৯৫১ সকে শিল্প লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী প্রথম পঞ্চবার্ষিকী যোজনা শুরু থেকেই প্রধান প্রধান শিল্পক্ষেত্রে এই প্রথা চালু হয় এটি চালু ছিল ১৯৯১- মে মাস পর্যন্ত এই নীতি ধারাবাহিকভাবে বেশির ভাগ রাজ্যের ক্ষেত্রে, বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গ পূর্বাঞ্চলের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে কার্যকর হয় তবে এটাও ঠিক যে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরিকিন্তু তা দরকার দেশের অর্থনীতির সুষম বিকাশের স্বার্থেআর কার্যক্ষেত্রে কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার নিয়ন্ত্রণ-প্রথাকে বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেতাই, ভিন্ন কারণে ১৯৯১ সালে এই নীতি বাতিল করা হলেও, আমরা তাকে স্বাগত জানাইনরসিমা রাও সরকার আমাদের উপকার করতে এই প্রথা বাতিল করেনিকিন্তু এর ফলে আমাদের কাছে বাড়তি সুযোগ এসেছে

পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কেন্দ্রের অবিচারের তৃতীয় হাতিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে কেন্দ্রীয় বিনিয়োগের ভূমিকা পরিকল্পিত অর্থনীতিতে উন্নয়নশীল দেশে কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ একটি ভূমিকা পালন করে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির প্রযুক্তি উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ করা ছাড়াও পরিকাঠামোর উন্নয়নে কেন্দ্রীয় বিনিয়োগের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বিরাট অবিচার করা হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকে এই রাজ্য বিরাটভাবে বঞ্চিত হয়েছে রেল, বিমানবন্দর, পোস্ট অফিস ইত্যাদি ক্রমাগতুন্নয়ন আধুনিকীকরণ বিকাশ শিল্প স্থাপনে অন্যতম প্রধান শর্ত   স্বাধীনতার পর থেকে রেল, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদী বন্দর উন্নয়নে বিশেষ কোনো বিনিয়োগ হয়নি যখন এই রাজ্যকে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন চেয়ে ১১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, তখন কেন্দ্রীয় সরকার গুজরাটে শতকরা একশো ভাগ অর্থ ব্যয় করে আধুনিক পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা স্থাপন করেছে

পশ্চিমবঙ্গে মেট্রো রেল, দুর্গাপুর ইস্পাত কলকাতা বিমানবন্দরে আংশিক আধুনিকীকরণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ হয়নি

পশ্চিমবঙ্গে যেখানে বিনিয়োগের ভাগ ছিল ১৯৮১ সালে .%, সেখানে এটা ১৯৯১ সালে নেমে দাঁড়িয়েছে %- তুলনীয় রাজ্য মহারাষ্ট্র ১৯৮১ সালে কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ .% (প্রায় পশ্চিমবঙ্গের সমান) ১৯৯১ সালে বেড়ে হয়েছে ১৬.%

এছাড়া কেন্দ্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী শিল্প অন্যান্য ক্ষেত্রে পুঁজি বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যাঙ্কের ভূমিকা বিরাট ক্ষুদ্রশিল্প থেকে বড় শিল্প প্রতি ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বড় রকমের অবিচার করা হয়েছে হচ্ছে এখনকার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিনিয়োগকারী যদি কোনো প্রকল্পে একশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চান, তা হলে তাঁকে আনতে হবে ২৫-৩০ শতাংশ টাকা বাকি অর্থ তিনি পাবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে এই অবস্থায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিরূপতা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে বোঝা যায় । 

পশ্চিমবঙ্গ থেকে বছরে ২৫-৩০ হাজার কোটি জমা পড়ে জমা ঋণের সর্বভারতীয় গড় অনুপাত যেখানে ৬২ শতাংশ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ১৯৯৪ সালে মার্চে ৪৩. শতাংশ এটা পাঁচ বছর আগের চাইতেও কম সর্বভারতীয় গড়ের চাইতে অনেক বেশি কয়েকটি রাজ্য পায় কেন্দ্রীয় সরকারের বদান্যতার জন্য সর্বভারতীয় গড়ের চেয়ে শতকরা ২০ ভাগ কম পাওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রতি বছর ছিটকে যাচ্ছে ক্রমাগত প্রতিবাদের ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একটি সমীক্ষা চালিয়ে আমাদের বক্তব্য সমর্থন করেছে ছাড়া ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের ভূমিকা বি আই এফ আর অনুমোদিত রিহ্যাবিলিটেশন প্যাকেজকে বানচাল করার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাঙ্কের ভূমিকা সুবিদিত এই বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক অবরোধের আর একটি স্তম্ভ

উপরোক্ত বিষয়গুলিকে হাতিয়ার করেই কেন্দ্রীয় কংগ্রেস (আই) সরকার রাজ্যের অগ্রগতি স্তব্ধ করার চক্রান্ত করেছে এরই ফলে আমাদের রাজ্য শিল্পায়ন ক্ষেত্রে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ে
  
সাতাত্তর সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার পর এতসব বৈষম্য এবং বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে চলেছি পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে আমাদের হাতে যতটুকু ক্ষমতা ছিল, তার সদব্যবহার করে ক্ষুদ্র শিল্পকে আমরা দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছি কৃষিতেও আমরা অনুসরণযোগ্য সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছি এই সাফল্যের উপর দাঁড়িয়েই আমরা শিল্পায়নে বাড়তি জোর দিয়েছি পশ্চিমবঙ্গের হৃতগৌরব আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই বামফ্রন্ট সরকারের গ্রামোন্নয়ন ভূমিসংস্কার মূলক কর্মসূচি রূপায়নের ফলে এরাজ্যে শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার একটা শক্তিশালী বুনিয়াদ তৈরি করা গেছে মানুষের চাহিদা বেড়েছে ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে আমরা মনে করি, শিল্পায়ন প্রচেষ্টাও একটা সংগ্রাম সেই সংগ্রামে আমরা জিতব

আমাদের বিরুদ্ধে যতই অপপ্রচার চালানো হোক, শিল্পায়ন প্রচেষ্টাতেও কেন্দ্রীয় শিল্পনীতির সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য রক্ষা করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারব আমাদের শিল্পায়ন প্রচেষ্টা উপরতলার ১০-১৫ শতাংশ মানুষের জন্য নয় সমগ্র জনগণের অর্থনৈতিক সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে আমাদের নীতি স্বনির্ভরতার লক্ষ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যমূল অর্থনৈতিক অবস্থান আয়ত্ত করাই আমাদের উদ্দেশ্য তাই একদিকে রাজনৈতিকভাবে আমরা নরসিমা সরকার গৃহীত নয়া অর্থনৈতিক নীতির অর্থনৈতিক নীতির বিরোধিতা করে যাব পাশাপাশি বামফ্রন্ট সরকার মানুষের কল্যাণে যতটা সুযোগ পাওয়া যায় ততটাই কাজে লাগবে শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক বেসরকারিকরণের ভ্রান্ত নীতির বিপদ মোকাবিলায়, রাজ্যে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত অবলম্বনকে কোনোভাবে ক্ষুন্ন না করে এবং সকলের সহযোগিতা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব বহু সংগ্রামে রক্ত ঝরিয়ে শ্রমজীবী মানুষ যে অধিকারগুলি অর্জন করেছেন, তা খর্ব করার জন্য যে কোনো প্রচেষ্টাকে বামফ্রন্ট সরকার সর্বশক্তি দিয়ে রুখবে




Tuesday, 15 December 2015

যত দূর মনে পড়ে - জ্যোতি বসু (২)

"তাঁদের বয়স একুশ-বাইশ তাঁরা কেবল বামফ্রন্ট সরকারের দুর্বলতাগুলিই প্রত্যক্ষ করেছেন কংগ্রেস (আই) শাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই তাঁরা কংগ্রেস (আই)- আধা ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসও প্রত্যক্ষ করেননি .... ১৯৮২ সাল থেকে মধ্যবিত্তদের একটা অংশ গ্রামাঞ্চলের একটা অংশের মধ্যে আমাদের রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে কংগ্রেস (আই)- কর্মী ছেলেমেয়েরা তখন থেকেই খুবই সক্রিয় তারা সবাই গুন্ডা বা সমাজবিরোধী নয় তারা জনগনের মধ্যে যাচ্ছে সরকারী কাজকর্মে এবং পার্টি বামফ্রন্টের কাজকর্মে আমাদের দুর্বলতা, ব্যর্থতা রয়েছে আমাদের আচরণ, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহার, দুর্নীতির (যদিও খুব সামান্য ক্ষেত্রে) ঘটনার প্রশ্নটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে কমিউনিস্টরা যে কংগ্রেস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন জাতের - সেটাই জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করেন "

"
আমাদের অসাফল্য ব্যর্থতার কারণগুলি অর্থাৎ আর্থিক সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথাগুলি সুনির্দিষ্টভাবে পরিষ্কারভাবে জনগণকে বোঝানো - এটাই জরুরি রাজনৈতিক কর্তব্য "

"
প্রধান বিষয় হলো : জনসাধারণের মধ্যে দৈনন্দিন লাগাতার কর্মতৎপরতার  স্লোগান কার্যকর করো, তাঁদের রাজনৈতিক চেতনার মান উন্নত করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস চালিয়ে যাও এবং পার্টির ভিতরে শুদ্ধিকরণের অভিযান অব্যাহত রাখো যেন প্রতিটি ক্ষেত্রে -- সরকারী কাজকর্মে, আমাদের আচরণে, আমাদের জীবন যাপনের ধারা (লাইফ স্টাইল) ইত্যাদিতে জনগণ যে আমাদের কংগ্রেস (আই)- মধ্যেকার পার্থক্য বুঝতে পারেন। ... আমাদের নিজেদের চৌহদ্দি থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে (ক্লাব, পাঠাগার, খেলা-ধুলা, সাংস্কৃতিক সংগঠন) ব্যাপক অভিযানের পরিকল্পনা নিতে হবে যে জনগণ মনস্থির করেননি, তাঁদের কাছে বেশি করে পৌঁছাতে হবে ধৈর্যশীল মনোভাব নিয়ে তাঁদের বোঝাতে হবে "

"
১৯৮৪ - ৮৫ সালে বাজেট ঘাটতি প্রথমে দেখানো হয়েছিল ১৯০০ কোটি টাকা যদিও বাস্তবে প্রায় 'মাসেই তা দিয়ে দাঁড়িয়েছিল পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেটে প্রথমে রাজীব সরকারও কত সব নয়ানীতির কথা তুলেছিল একুশ শতকের কথা রাজীব গান্ধী একটু বেশি বলতেন সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল নয়া অর্থনৈতিক নীতির কথা উন্নত কারিগরি বিদ্যা দ্রুত শিল্পায়নের ধুয়ো তুলে রাজীব সরকার যে নয়া নীতির কথা বলেছিল, তার মূল শর্তগুলি ছিল একরকম - বেসরকারি ক্ষেত্রকে আরো 'স্বাধীনতা' দেওয়া, রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রকে খাটো করা ক্রমশ তুলে দেওয়া, এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলির কচি ভারতের বাজার উন্মুক্ত করা "

"
বিরোধী ঐক্য গড়তে গিয়ে আমাদের পার্টি মূলত দেখছে, তারা যেন সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলির সঙ্গে আপস রফার পথ বর্জন করে এবং সমস্ত সাম্প্রদায়িক বিভেদপন্থী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বামপন্থী শক্তিগুলির সঙ্গে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে কিন্তু এসব পার্টির অনেকেই নির্বাচনী লাভের জন্য বিজেপি- সঙ্গে সমঝোতার পক্ষপাতী সেই সঙ্গে তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি শক্তি আছে যারা বামপন্থীদের সঙ্গে একই অবস্থান নিতে চায় এবং সেহেতু প্রতিক্রিয়াশীল পার্টিগুলির সঙ্গে সমস্ত বোঝাপড়া বর্জন করতে চায় "

রাজীব সরকার একদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং আর এস এস-কে বিতর্কিত জমিতে রাম জন্মভূমি মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে, আবার একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বাবরি মসজিদ ভাঙা হবে না বলে এবং তাদের আইনগত অধিকার সুরক্ষিত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছে "

"আইনের চৌহদ্দির মধ্যে নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাস বা সামাজিক ক্রিয়াকাণ্ড চালাবার অধিকার যে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর যেমন আছে, তেমনই তাদের এসব বিশ্বাস বা কাজকর্মের জন্য অন্য সংগঠন বা গোষ্ঠীর স্বার্থহানি ঘটতে পারে, তেমন কোনো কিছু রাজ্য সরকার করতে দিতে পারে না "

"
প্রতিক্রিয়ার শক্তিকে আঘাত হানার ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের তাই পৌঁছতে হবে সেই মানুষদের কাছে, যাঁদের ভুল বোঝাতে ওরা সক্ষম হয়েছে একদিকে অব্যাহত রাখতে হবে উন্নয়নমূলক কাজের ধারা, অন্যদিকে আরো নমনীয় হতে হবে আমাদের বারবার যেতে হবে মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে হবে সমস্ত প্রশ্নের মানুষের চেতনার মান উন্নত করতে হবে "

"
আমরা সংরক্ষণের বিরোধী নই  অনগ্রসরদের উন্নতি ঘটানোর জন্য সংরক্ষণ দরকার অন্তত বর্তমান অবস্থায় কিন্তু সংরক্ষণই একমাত্র সমাধান নয় এছাড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক মানদন্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মানদন্ডকে বাদ দিয়ে, জাতপাত ভিত্তিক বিভেদকামীরা মাথা চাড়া দেবে এবং এতে প্রতিক্রিয়ার হাতই শক্ত হবে "

"
২৫ জুন আমি চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীপদে শপথ নিলাম শপথ নিলেন অন্যান্য মন্ত্রীরা শপথ নেবার পর অনেকেই, বিশেষত সাংবাদিকরা সব রেকর্ডের কথা বলছিলেন  টানা চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রেকর্ড হয়েছিল কি না জানি না, তারপর তো পঞ্চমবারও আমরা জিতেছি তো ব্যক্তিগতভাবে আমার সাফল্য ছিল না আমি পার্টির দেওয়া দায়িত্ব করি জনগণ আমাদের পার্টির উপর, বামফ্রন্টের উপর আস্থা রেখেছেন, এটাই বড় কথা এতে যে দায়িত্ব কত বেড়ে গিয়েছিল, কত বেড়ে যায় একথাই আমি বারবার বলি আরো দায়িত্ব পালনের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে আমাদের "

"পি ভি নরসিমা রাওয়ের নতুন সরকার তার অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের হাত দিয়ে যে নয়া অর্থনীতি হাজির করল, তা বলা যেতে পারে নতুন সরকারের প্রথম জনবিরোধী সিদ্ধান্ত রাজীব গান্ধীর আমলের উদারনীতিবাদ আমাদের জাতীয় অর্থনীতির গোড়ায় আঘাত করেছিল এখন অর্থনীতির বেসরকারিকরণ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে আস্তে আস্তে তুলে দেওয়া, বিদেশী পুঁজির নাম করে দেশের বাজার খুলে দেওয়ার জন্য এবং আমাদের দেশের একচেটিয়া পুঁজি যাতে বাড়ে তার জন্য সমস্ত বাধানিষেধ তুলে দেবার জন্য চাপ আসছিল নয়া অর্থনীতি সেই চাপেরই ফসল আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারের কাছে আরো ঋণ পাওয়ার জন্য তাদের শর্ত মানতে গিয়ে আমাদের দেশ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে এবং দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হওয়ার মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে নরসিমা রাও সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলি দেশের বুকে এক নয়া সর্বশক্তি হাজির করল "

"২৮তম কংগ্রেস সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়ের প্রক্রিয়াকে আরো এগিয়ে নিয়ে এল কংগ্রেসের গৃহীত প্রস্তাবে 'মানবিক গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের' কথা বলে, শ্রেণী মূল্যবোধের বদলে তথাকতিত 'বিশ্বজনীন মানবিক মূল্যবোধের' স্থান দেওয়া হলো দলিলে সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে কোনো সংঘাতের কথা বাতিল করে, তাদের সাহায্যেই তথাকতিত 'নিরাপদ সভ্য বিশ্বব্যবস্থা' গড়ে তোলার কথা বলা হলো

শুধু তাই নয়, সি পি এস ইউ নেতৃত্ব ত্রুটি সংশোধনের বদলে ২৯তম কংগ্রেসের জন্য তৈরি খসড়া কর্মসূচিতে পরিষ্কার ভাবে বলে দিল যে, আজকের সমাজে কোনো শ্রেণী-বিভাজন নেই, শ্রম পুঁজির মধ্যে বৈরিতা নেই এবং সাম্রাজ্যবাদ সমাজতন্ত্রের মধ্যে কোনো বৈরিতা নেই, কোনো সংঘাত নেই ভাবতেও অবাক লাগে যে, এসব কথা ওঁরা  কীভাবে বললেন সারা বিশ্বের প্রকৃত অবস্থার থেকে -যেন মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এসব কথা সাম্রাজ্যবাদীদের উল্লসিত করে তুলল প্রতিবিপ্লব সুযোগ পেয়ে গেল "


"আমরা মার্কসবাদীরা একথাই বলি যে, মানুষের কাছে যাও, সেখান থেকে শিক্ষিত হও "

"এই কঠিন মতাদর্শগত আক্রমণের চাপ সহ্য করতে না পেরে বহু দেশেই কমিউনিস্ট পার্টি নিজেই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ পরিত্যাগ করে আকঁড়ে ধরছে সোস্যাল ডেমোক্র্যাসি চতুর্দশ কংগ্রেস সঠিকভাবে বলেছিল যে, চিরকালই সোস্যাল ডেমোক্র্যাসি হচ্ছে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে সংস্কারের মতাদর্শ এটি হলো শ্রেণীসংগ্রামের বদলে শ্রেণী সমঝোতার লাইন তাই এটা বিপদ এবং এই মতাদর্শগত আক্রমণকে সরাসরি মোকাবিলার জন্য আমরা বলেছিলাম যে, অবস্থায় গণ-আন্দোলনের বিকাশ, মতাদর্শগত শুদ্ধতার প্রতি বিশ্বস্ততা রক্ষা করার ওপরই নির্ভর করছে, সাম্রাজ্যবাদের বর্ধিত বিপদকে কতটা মোকাবিলা করা যাবে "

"
ডিসেম্বর বর্বরেরা ভেঙে দিল বাবরি মসজিদ গোটা বিশ্বের কাছে মাথা হেঁট করে দিল আমাদের "

"১৯৯৫ সাল
শেকসপিয়ার বার্থপ্লেস ট্রাস্টের ডিরেক্টরকে আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি আবক্ষ মূর্তি উপহার দিই । ভারতের হাইকমিশনার ড. এস এম সিংভি এ ব্যাপারে অনেক আগে থেকে উদ্যোগী হয়েছিলেন । রবীন্দ্রনাথের মূর্তিটি শেকসপিয়ারের জন্মস্থানের বাগানে রাখা হবে । খুব সুন্দর সময় কেটেছিল । যদিও বেশিক্ষণ থাকা হয়নি । সেবার লন্ডনের নেহেরু সেন্টারেও রবীন্দ্রনাথের একটি মূর্তি উপহার দিয়েছিলাম । এই মূর্তি বিখ্যাত ভাস্কর সোমনাথ হোড়ের তৈরি ।"

"জাতীয় রাজনীতিতে আমাদের মর্যাদা বেড়েছে সেই অনুপাতে সাংগঠনিক ক্ষমতা বাড়েনি সুষম বিকাশ হয়নি এটা কাটিয়ে উঠতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব "


"
পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট পঞ্চমবার মন্ত্রিসভা গঠন করলেও আগামী দিনে আত্মসন্তুষ্টি বা শৈথিল্যের কোনো স্থান নেই আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে জনগণ আমাদের কাছে অনেক বেশি প্রত্যাশা করেন গোটা দেশ তো বটেই বিদেশের মানুষও আজ ভারতের বামপন্থীদের দিকে তাকিয়ে আছেন খেটে খাওয়া মানুষের অনেক আশা আমাদের উপর জনগনকে রিলিফ দেবার জন্য যথাসাধ্য করতে যেমন হবে, তেমনই তাঁদের রাজনৈতিক চেতনার মান বাড়াতে হবে কাজ কমিউনিস্টরাই পারে কারণ, শুধু সরকার গঠনের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়ে যায় না সামাজিক রূপান্তরের পথ অনেক জটিল অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে সেই পথ অতিক্রম করতে হয় এর কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই "